ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমের ক্যারেটে লুকিয়ে ১০০ বোতল এসকাফ পাচারের চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে নৌকাসহ ভারতীয় সিরাপ জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী ওয়াসার নতুন এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী রাসিকের ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমে জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বস্তিতে ১১ নম্বর ওয়ার্ডবাসী চট্টগ্রামে ৮ মামলার পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার আরএমপির অপরাধ পর্যালোচনা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রাজশাহীতে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালত, শামিম সুইটসকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী নগরীতে মাদক মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদন্ড রাজশাহীতে দেড় কেজি হেরোইন-সহ গ্রেফতার ১৬ রাজশাহীতে মাদকের বিস্তার: ট্রানজিট রুটে সক্রিয় চক্র, গডফাদারদের গ্রেফতারের দাবি পাবনায় চালককে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই করা অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার যশোরে দুই ছেলে সরকারি কর্মকর্তা, মা তুলে খান বয়স্ক ভাতা তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে শিক্ষার্থীর মৃত্যু মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্ষায় ঘরের আর্দ্রতা কমাতে কোন কৌশল প্রয়োগ করলে বিদ্যুতের খরচ কমবে

ফারাক্কার প্রভাবে মৃতপ্রায় রাজশাহীর নদ-নদী, জীবিকা হারাচ্ছেন জেলেরা

  • আপলোড সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০৭:০৪:১৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০৭:০৪:১৩ অপরাহ্ন
ফারাক্কার প্রভাবে মৃতপ্রায় রাজশাহীর নদ-নদী, জীবিকা হারাচ্ছেন জেলেরা ফারাক্কার প্রভাবে মৃতপ্রায় রাজশাহীর নদ-নদী, জীবিকা হারাচ্ছেন জেলেরা
রাজশাহী শহর ঘেঁষে বয়ে চলা পদ্মা নদী এখন আর আগের মতো খরস্রোতা নয়। দেশের অন্যতম প্রধান এই নদী শুকিয়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। নদীর বুকে জমেছে বালু ও পলিমাটি। যেখানে একসময় চলত নৌকা, সেখানে এখন চলছে ট্রাক্টর। নদীর চরে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ। শুধু পদ্মাই নয়, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে রাজশাহী অঞ্চলের অধিকাংশ নদ-নদী। দখল, দূষণ ও নাব্য সংকটে আত্রাই, ছোট যমুনা, তুলশীগঙ্গা, শিবনদ, নাগর নদসহ বহু নদী হারাতে বসেছে তাদের ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব।

পানি কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নদীনির্ভর মানুষজন। রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়া এলাকার যতীন জানান, একসময় তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন নদীতে পানি ও মাছ না থাকায় বাধ্য হয়ে রিকশা চালাচ্ছেন। একই অবস্থা বহু জেলের। অনেকে নৌকা ও জাল গুটিয়ে শহরে দিনমজুর কিংবা রিকশাচালকের পেশা বেছে নিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের এক সময়ের খরস্রোতা চকের নদী এখন প্রায় বিলীন। প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি একসময় মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাগলা নদীর সঙ্গে মিলিত হতো। নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও নৌবাণিজ্য। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, নদীতে সারাবছর পানি থাকত, মানুষ গোসল করত, মাছ ধরত, নৌকায় চলাচল করত। বর্তমানে সেই নদীর বুকজুড়ে ধান, ভুট্টা, পাট ও সবজির আবাদ হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর পদ্মার প্রবাহ পরিবর্তনের কারণে চকের নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এক শ্রেণির ভূমিদস্যু নদীর জমি দখল করে চাষাবাদ ও বসতবাড়ি গড়ে তোলে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদীটি পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনাকষা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল হালিম, আবু হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসনে মন্টু ও বদিউর রহমান বলেন, একসময় এই নদীতে সারাবছর পানি থাকত। এখন নদীটা শুধুই মরা খাল।

পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী কেবল পানির উৎস নয়; এটি একটি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল এবং বাড়ছে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদীটি সম্পর্কে তিনি নতুন করে জেনেছেন। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবিব জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নদীর জমি পুনরুদ্ধার ও খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে নাটোর জেলার ১৯টি নদীর মধ্যে সবচেয়ে বেহাল অবস্থা নারদ ও বড়াল নদীর। বারনই ও মুসা নদীও দখল করছেন প্রভাবশালীরা। জেলার অধিকাংশ বড় খালও দখল হয়ে গেছে। রাজশাহী শহরের পদ্মাপাড় এলাকায় লালন শাহ মুক্তমঞ্চের সামনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শতাধিক দোকানপাট। বড়াল, নারদ ও হুজা নদীতে বাঁধ দিয়ে ধান ও মাছের চাষ করছেন স্থানীয়রা। নগরীর ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি বারনই নদীতে গিয়ে পড়ায় কৃষিজ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, মহানগরীতে এক হাজার ৬১২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, সরকারের নির্দেশনায় মৃতপ্রায় নদী ও খাল দখলমুক্ত করে সংস্কার ও খনন কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে ৪০টিরও বেশি নদ-নদী ও খাল বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। অথচ দুই যুগ আগেও এসব নদীতে পর্যাপ্ত নাব্যতা ছিল।

এদিকে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজশাহীতে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে উদযাপন কমিটি। নেতারা অভিযোগ করেছেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে গঙ্গা-পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে গিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

পরিবেশবিদ ও নদী বাঁচাও আন্দোলন রাজশাহীর নেতা অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি উপেক্ষা করে অভিন্ন নদীগুলোর পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলো শুষ্ক মৌসুমের আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি গঙ্গায় পানিপ্রবাহ ছিল ৯০ হাজার ৭৩০ কিউসেক। ২০২৪ সালের একই দিনে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ৪০৯ কিউসেকে। মাত্র এক বছরে প্রবাহ কমেছে ১৫ হাজার ৩২১ কিউসেক।

এ পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মাণাধীন এই ব্যারেজের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা হলে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি, সেচ ও জীববৈচিত্র্েয ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বড়গাছি গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, পদ্মায় পানি থাকলে গভীর নলকূপে সংকট হবে না। চাষাবাদেও সুবিধা হবে। বাঘা উপজেলার কৃষক আব্দুল বাছির বলেন, শীতকালে পদ্মায় পানি না থাকায় চাষাবাদে সমস্যা হয়। পানি ধরে রাখা গেলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত নদীর পানির স্তর ধরে রাখা সম্ভব হবে। এতে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর প্রবাহ সচল থাকবে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট অনেকাংশে কমবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী

দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী